Posts

Showing posts from December, 2025

অরণ্য, অলৌকিকতা ও অমর বিশ্বাসের কাহিনি: শ্রীশ্রী চিত্তেশ্বরী মন্দির

Image
 পর্ব ৩  বরানগরের উদ্যানবাটী অঞ্চল থেকে অতি দূরে নয়, কাশিপুর ও চিৎপুরের সংযোগস্থলে খগেন চ্যাটার্জী রোডের এক নিভৃত কোণে আজও নীরবে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল হল শ্রীশ্রী চিত্তেশ্বরী মন্দির। চারপাশের আধুনিক কোলাহলের মাঝেও এই মন্দির যেন সময়ের স্রোত পেরিয়ে এসে দাঁড়িয়ে থাকা এক আধ্যাত্মিক দ্বীপ, যেখানে বিশ্বাস, লোককথা ও সাধনার অদৃশ্য সুতোয় আজও গাঁথা রয়েছে শতাব্দীর পর শতাব্দীর স্মৃতি। চিত্তেশ্বরী নামটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে রহস্য ও কৌতূহল। লোকমুখে শোনা যায় নানা ব্যাখ্যা। কেউ বলেন, চিতে নামের এক দুর্ধর্ষ ডাকাতের নামেই দেবীর এই নামকরণ। আবার কারও মতে, চিৎপুর অঞ্চলের নাম থেকেই দেবীর নামের উৎপত্তি। সত্যের নির্দিষ্ট পথ হয়তো ইতিহাসের ধূলায় ঢাকা পড়েছে, কিন্তু জনশ্রুতি ও বিশ্বাস মিলেমিশে দেবীর নামকে আজও জীবন্ত রেখেছে। যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, তখনকার চিৎপুর আজকের মতো জনবহুল ছিল না। বিস্তীর্ণ অরণ্য, গহিন জঙ্গল আর অজানা আতঙ্কে মোড়া ছিল এই অঞ্চল। হিংস্র জন্তু আর ডাকাতের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের জীবন ছিল দুর্বিষহ। এই অরণ্যের মধ্যেই বাস করত এক ভয়ংকর চিতে ডাকাত। তার নিষ্ঠুরতার ...

রঘুনাথ আচার্য্যের পাঠবাড়ি : বরানগর

Image
বরানগর—গঙ্গাতীরের সেই প্রাচীন জনপদ। এটি শাক্ত উপাসনা ও বৈষ্ণব ভক্তিধারার এক অনবদ্য মিলনবিন্দু। নদীর ধারে নির্জন এই গ্রামটির বুকে রঘুনাথ আচার্য্যের আগমন যেন এক নূতনের সূচনা। তাঁর কুটিরে প্রতিদিনের শাস্ত্রপাঠ ও পূজার ধোঁয়ায় ভরে উঠত আকাশ, আর আগরপাড়া-পানিহাটির জলপথে ছড়িয়ে পড়ত তাঁর খ্যাতির গল্প। সেইসব নিস্তব্ধ দিনে তাঁর হঠাৎই জেগে ওঠে এক অনিবার্য আকাঙ্ক্ষা। নবদ্বীপধামের অদ্বিতীয় মহাপুরুষ নিমাই পণ্ডিতের দর্শনলাভ করতেই হবে তাঁকে। রঘুনাথের সেই দীর্ঘ এবং বিপদসঙ্কুল যাত্রা শেষ করে নবদ্বীপের শ্রীবাস অঙ্গনে পৌঁছান এবং তিনি দেখেন নৃত্য-মগ্ন ভক্তসমাজ ও তাদের মধ্যে দীপ্তিময় অবয়বে উদ্ভাসিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর স্বরূপ। মহাপ্রভুর কোমল বুকে আশ্রয় পেয়ে রঘুনাথ পেয়ে যান জীবনের পথনির্দেশ।মহাপ্রভুর নির্দেশমতো দীক্ষার জন্য তিনি গদাধর পণ্ডিতের শরণাপন্ন হন ও বরানগরে ফিরে আসেন এক মহাগ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্যে। ছবি : ইন্টারনেট  রঘুনাথ আচার্য্য মহাপ্রভুর নির্দেশ মেনে বরানগরে ফিরে শুরু করেন ভাগবৎ রচনা। সেই নির্মল সাধনক্ষেত্রে পরবর্তীতে স্বয়ং মহাপ্রভু এসে বসে শ্রবণ করেছিলেন সেই ভাগবৎ যার প্রথম দুটি শ্লোক ...

নামের ইতিহাস : বরানগর

Image
 পর্ব ১ বরানগর—নামটি উচ্চারণ করলেই কত শত স্মৃতি, কত অগণিত মানুষের পদচিহ্ন, অথচ যেন নিঃশব্দে সময়ের অতল গর্ভে ডুবে থাকা এক প্রাচীন মহল্লা। বৈবাহিক সূত্রে পাঁচ বছরের বাস, কিন্তু তার আগেই শৈশব থেকে এই শহরতলির অলিগলিতে আমার অসংখ্য যাতায়াত। বাবার মামার বাড়ি ও এক পিসির বাড়ি, আমার মাসির বাড়ি, মায়ের দুই মামা আর এক মাসির বাড়ি—সব মিলিয়ে বরানগর ছিল আমার বংশের এক অন্তরঙ্গ বিস্তার, আর আমার শৈশব-কৈশোরের জীবন্ত ভৌগোলিক মানচিত্র। কতবার এসেছি এখানে, তার হিসেব রাখা বৃথা; গঙ্গার হাওয়ার মতোই সে স্মৃতি উড়ে আসে, আবার মিলিয়ে যায়। ছয়শো বছরের ইতিহাস বুকে নিয়ে আজকের বরানগর দাঁড়িয়ে আছে—এককালে অচেনা এক গণ্ডগ্রাম, যার সঙ্গে 'নগর' শব্দ জোড়া লাগল ঠিক কীভাবে, তা যেন এক রহস্যময় গল্প। হুগলি নদীর পূর্ব তীরের এই জনপদ এই বরানগর। পূর্বে শিয়ালদহের ব্যস্ততা, পশ্চিমে স্নিগ্ধ গঙ্গা, উত্তরে দক্ষিণেশ্বরের ধূপ-ধুনোর গন্ধ, আর দক্ষিণে কাশীপুর-সিঁথির মোড়—সব মিলিয়ে এ স্থান যেন ইতিহাসের এক মায়ারুপে গড়া মানচিত্র। লোককথা বলে, রাজা বিক্রমাদিত্যের নবরত্ন সভার দিগ্‌গজ জ্যোতিষী বরাহমিহির নাকি এই অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর নামেই নাক...